বামপন্থা ও গণতন্ত্রের কথোপকথন

[দেশ]

[দেশ]

কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও মেয়েরা

কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও মেয়েরা

মালিনী ভট্টাচার্য

photo

যদিও আমাদের সমাজে গৃহস্থালিকেই বরাবর মেয়েদের মূল কাজের জায়গা বলে মনে করা হয়েছে, তবু তাদের বাইরের কাজে অংশগ্রহণ করে জীবিকা অর্জন করার ইতিহাসও নেহাৎ কম দীর্ঘ নয়। বিশেষত বৃহত্তর অর্থনৈতিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে তো অনেকদিন ধরেই শ্রমজীবী শ্রেণীর মেয়েদের মেহনত ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন ব্রিটেনে পুঁজিবাদী অর্থনীতির সূত্রপাতেই মেয়েদের আমরা কাজ করতে দেখি কলকারখানায়, কয়লাখনিতে, এমনকী নদীপথে বজরায় মাল টেনে নেবার জন্য ঘোড়া বা খচ্চরের বদলি হিসেবে। আমাদের দেশেও শ্রমজীবী মেয়েদের বাইরের কাজে অংশগ্রহণের ইতিবৃত্ত প্রায় একই রকম।
পুরুষের তুলনায় মেয়েদের মজুরির হার, কাজের সময় এবং ধরণ, কাজের নিরাপত্তা, সন্তানধারণ ও পালনের সুবিধা ইত্যাদি বিষয়গুলিতে অনেকদিন অনেক লড়াইয়ের পরেই মেয়েদের অধিকারের প্রশ্ন কিছু জায়গা করে নিতে পেরেছে। মোটামুটি উনিশ শতকের যুগসন্ধির সময় থেকে কিছুটা সুবিধাপ্রাপ্ত বর্গের মেয়েরা অনেক কুসংস্কার ও বাধাবিপত্তি ঠেলে আমাদের দেশে জীবিকা অর্জনের জন্য বাইরের কাজে যোগ দেওয়া শুরু করেছেন। তাঁদের ব্যাপকতর যোগদানের পর থেকে কর্মস্থলে মেয়েদের বিভিন্ন অধিকারের প্রশ্নগুলি আরো সোচ্চার হবার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু কর্মস্থলে নিরাপত্তার অভাব ও যৌন হেনস্থার সমস্যাটি প্রথম থেকেই সর্বস্তরে থাকলেও এর প্রতিরোধে অনেকদিন পর্যন্ত তেমন কোনও আইনি ব্যবস্থা ছিল না; সাধারণভাবে ফৌজদারি আইনে মেয়েদের উত্যক্ত করা বা তাদের ‘শ্লীলতাহানি’র প্রতিকারে যে ধারাগুলি আছে তা ছাড়া।
১৯৯০এর দশকে রাজস্থানের সরকার একটি প্রকল্প চালু করে ‘সাথিন’ নামে। এতে যে মেয়েরা নিযুক্ত হতেন তাঁদের অন্যতম নির্ধারিত দায়িত্ব ছিল শিশুবিবাহের বিরুদ্ধে গ্রামে গ্রামে প্রচার করা। ১৯৯৩ সালে ভানওয়ারি দেবী নামে একজন ‘সাথিন’ এই কাজ করতে গিয়ে গ্রামের উচ্চবর্ণের কিছু মানুষের কোপে পড়েন এবং তাদের দ্বারা নৃশংসভাবে ধর্ষিত হন।
রাজস্থানের আদালতে যখন এই অপরাধের সুবিচার পাওয়া গেল না তখন ‘বিশাখা’-সহ কয়েকটি এনজিও তাঁর হয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। সুপ্রিম কোর্ট ১৯৯৭ সালে মামলাটিকে মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের মামলা সাব্যস্ত করে তাদের রায়ে একটি নির্দেশিকা জারি করে যা পরে Visaka Guidelines নামে কর্মস্থলে যৌন হেনস্থার প্রতিরোধে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। সংসদে গৃহীত কোনও আইন না হলেও সর্বোচ্চ আদালতের প্রদত্ত নির্দেশ হিসাবে তার সার্বিক মান্যতা ছিল।
পরে ২০১৩ সালে এই নির্দেশিকার ভিত্তিতেই সংসদে The Sexual Harassment of Women at Workplace (Prevention, Prohibition and Redressal) Act 2013 বা সংক্ষেপে POSH গৃহীত হয়। আগে এবিষয়টি নিয়ে যতটা চর্চা হয়েছিল আইনটি পাশ হবার সময়ে কিন্তু তার খুঁটিনাটি বিষয়গুলি নিয়ে পূর্ণ আলোচনার সুযোগ পাওয়া যায়নি। আইনের মধ্যে অনেক গলতিও তাই থেকে গেছে। এই আইন চালু হবার পর থেকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাটির আর কোনও আইনি অস্তিত্ব নেই।
একটি বিষয় এখানে লক্ষ্যণীয়। আইনটির মূল উদ্দেশ্য অপরাধের বাড়বাড়ন্ত হবার আগেই তা নিবারণ করে কর্মস্থলকে নিরাপদ করা। কর্মস্থলে যৌন হেনস্থার বাড়বাড়ন্ত ঘটতে থাকলে ভানওয়ারি দেবীর কেস-এ তা পরিণতি পেতে বাধ্য। তখন আর এই আইন কার্যকরী হবে না। অন্য আদালতগ্রাহ্য ফৌজদারি আইনেরই প্রয়োজন হবে। আইনপ্রণেতাদের আশা ছিল, কর্মস্থলের ভিতরে কর্তৃপক্ষ এই আইনমাফিক সময়মতো উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে অপরাধ ততদূর গড়াবে না। আইন চালু হবার দশ বছর কেটে যাবার পরেও যে সেই আশা সফল হয়নি। তার একটি প্রমাণ মাস ছয়েক আগে আমাদেরই রাজ্যে কলকাতার বুকে নামী সরকারি হাসপাতালে এক তরুণী শিক্ষার্থী-চিকিৎসকের কর্তব্যরত অবস্থায় হাসপাতাল চত্বরের ভিতরে নৃশংস ধর্ষণ-খুন। এই ঘটনা নাগরিক-সমাজকে আলোড়িত করে শুধু এই প্রশ্নই তুলছে না যে কর্মস্থলে মেয়েদের নিরাপত্তা কেন নেই, একই সঙ্গে তদন্ত ও বিচারের রকম-সকম আমাদের একথাও নতুন করে মনে পড়িয়ে দিচ্ছে যে সেই ভানওয়ারি দেবীর ধর্ষণের মামলাটিতেও কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সুবিচার পাননি ফরিয়াদি।
অবস্থাটা কেন এমন? কর্মস্থলে যৌন হেনস্থার ব্যাপক উপস্থিতি আসলে আরো ব্যাপক সামাজিক অবিচারের প্রতিফলন। সমাজের সর্বত্র মেয়েদের যে হীনাবস্থা আমরা লক্ষ্য করি, যে দুর্ব্যবহার তারা সাধারণত সব জায়গায় পেয়ে থাকে কর্মস্থলে নিরাপত্তার অভাব বা যৌন হেনস্থা তো তারই একটি বিশেষ রূপ। পরিবারের মধ্যেও যারা নানাভাবে অবহেলিত অবদমিত হয় তারা যে কর্মস্থলেও হেনস্থার শিকার হবে তার আশ্চর্য কী? ভানওয়ারি দেবীর ক্ষেত্রে অবিচারের আরো একটি মাত্রা আছে; তা হল সমাজের গভীরে সঞ্চারিত জাতিভেদের বিষ। সাধারণভাবে নারী-পুরুষের অসাম্য আরো উৎকট রূপ নেয় যখন তার সঙ্গে জাতিভেদ বা ধর্মভেদের উপাদান যুক্ত হয়।
তাই যৌন হেনস্থাকে শুধুই ‘সহজলভ্য’ নারী-সম্বন্ধে পুরুষের উদগ্র যৌন কামনার প্রকাশ হিসাবে দেখলে হবে না। এখানে power play বা ক্ষমতার খেলার একটা বিশেষ ভূমিকা থাকে। যে সমাজে ক্ষমতাশালী সে মনে করতে অভ্যস্ত যে, যারা তুলনায় সামাজিকভাবে দুর্বল তাদের সঙ্গে যথেচ্ছ আচরণ করা যায়। আর্থিক শক্তি, সামাজিক মর্যাদা বা বয়সের পাল্লা একদিকে যত ভারি হবে নানাবিধ হেনস্থার সঙ্গে যৌন হেনস্থার সম্ভাবনাও ততই বাড়বে। শারীরিক/মানসিক প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মানুষের ওপর ক্ষমতা-প্রদর্শন সহজ মনে করে অনেকসময়ে যৌন হেনস্থার বলি করা হয় তাঁদের। প্রান্তিক যৌনতার মানুষদেরও ‘ব্যতিক্রমী’ বলেই অসহায় মনে করে যথেচ্ছ যৌন হেনস্থা ঘটে তাঁদের ওপর। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‍্যাগিং-এর ঘটনার শিকার হন যে সদ্য-আসা ছাত্ররা তাঁরা পুরুষ হলেও র‍্যাগিং-এর মধ্যে যৌন হেনস্থার উপাদান তাঁদের অসহায়তার সুযোগ নিয়েই ঢুকে যায়। তার অর্থ, সমাজে বৈষম্য-জনিত অত্যাচার যত বাড়ে, যৌন হেনস্থার পরিসর ততই প্রশস্ত হতে থাকে।
আগেই বলেছি, আইনটিতে অনেক খামতি রয়েছে। সবচেয়ে মৌলিক খামতি এটাই যে এটির প্রয়োগ কর্মক্ষেত্রের ভিতরে হবার কারণে তা সরকার ও কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার ওপরে অনেকখানি নির্ভর করছে। তা সাধারণভাবে আদালতগ্রাহ্য নয়। আইন মেনে না চললে কর্তৃপক্ষের কিছু জরিমানার ব্যবস্থা আছে, তবু তার বেশি উদাহরণ আমরা পাই না। আর আইন অনুযায়ী সরকারের যা করণীয় তা যদি সরকার না করে? তাহলে তা নিয়ে কেউ আদালতে জনস্বার্থ মামলা করতেই পারে। কিন্তু তা সময়সাপেক্ষ এবং কোনও ভুক্তভোগীর অসুবিধা তা থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দূর হবে না।
আমাদের রাজ্যেই আমরা দেখছি, মেয়েদের বিষয়গুলি নিয়ে নজরদারি করার বা আইনি পরিকাঠামোর সঙ্গে মধ্যস্থতা করার মতো যেসব প্রতিষ্ঠান ছিল (যথা, মহিলা কমিশন, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, রাজ্য আইনি পরিষেবা অধিকার বা SLSA ইত্যাদি) সেগুলির গত কয়েক বছরে যথেষ্ট অবক্ষয় ঘটেছে। যেকারণে মেয়েদের মধ্যে স্কুলছুট, কমবয়সে বিয়ে, পাচার ইত্যাদির ঘটনা বাড়ছে। একই কারণে কর্মস্থলে যৌন হেনস্থা ঘটলেও যাদের সবচেয়ে প্রয়োজন সেই মেয়েরা কোথায় যাবে সেবিষয়ে তাদের কোনও ধারণাই নেই।
তাছাড়া এই আইন কার্যকরী করতে গেলে যে পরিকাঠামো প্রয়োজন কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরে তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুতর অবহেলা ও অমনোযোগ রয়েছে। সমস্তরকম কর্মস্থলে লাগাতার প্রচার এবং সচেতনতা বৃদ্ধির নিয়মিত কার্যক্রম পুরোই বন্ধ। মালিক বা কর্তৃপক্ষের স্তরেই শুধু নয়, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের স্তরেও আভূমি পৌঁছানোর মতো কোনও কার্যক্রম আমাদের চোখে পড়ছে না। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের এই অবহেলা আইনটির যেটুকু প্রয়োগ হতে পারত তাও হতে দিচ্ছে না।
অসংগঠিত ক্ষেত্রে বা এককভাবে যে মেয়েরা কাজ করেন তাঁদের এই আইনের সুবিধার বৃত্তে আনায় বিরাট সমস্যা রয়েছে। আজকের দিনে মেয়েদের কর্মক্ষেত্রের দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে দেখব এই সমস্যার সমাধানে যা করা দরকার ছিল তা করায় বাধা রয়েছে সরকারি নীতির মধ্যেই। নব্বইয়ের দশকের অর্থনৈতিক উদারিকরণের নীতি আমাদের এই ভরসা দিয়েছিল যে এর ফলে মেয়েদের কাজের ক্ষেত্র অনেক বেড়ে যাবে, এবং তাঁদের কর্মী হিসেবে গতিশীলতা বা ‘মোবিলিটি’ নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। অথচ কার্যত ঘটছে নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রে অবাধ কর্মসংকোচন এবং বিশেষত মেয়েদের ওপর বর্তাচ্ছে এমন সব কাজ যা একেবারেই অসংগঠিত, অল্প মজুরি এমনকী বিনা মজুরির কাজ, যার সময়ের ঠিকঠিকানা নেই, মজুরের সুবিধা-অসুবিধার কথা তোলার কোনও জায়গাই নেই।
আবার মেয়েরা আজকাল যেসব হাড়ভাঙ্গা লাগাতার মেহনতে যুক্ত আছেন, তেমন অনেক কাজেরই কাজ বলেই কোনও স্বীকৃতি নেই সরকারের প্রচারিত লেবার কোড অনুযায়ী। উপরন্তু মেয়েদের চিরাচরিত ঘরের কাজ মূল্যবৃদ্ধি ও সংসারের মৌলিক প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলি অমিল হবার কারণে আরও বেশি শ্রমসাধ্য হয়ে উঠছে একই সঙ্গে। ন্যায্যমূল্যে সেগুলির সরবরাহ নিশ্চিত করার বদলে শাসকদলগুলি সেই খরচে কিছু নগদ প্রাপ্তির ব্যবস্থা করে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর ফলে দারিদ্র্য দূর হচ্ছে না, কিন্তু মেয়েদের নিজেদের মধ্যেই অসমতা বাড়ছে। এইসব কারণে মেয়েদের শ্রমের মূল্যের লাগাতার অবক্ষয় ঘটছে।
ক্রমশ আরও বেশি কাজের বোঝা অলক্ষ্যে সব কর্মীর মাথাতেই চেপে বসছে, কিন্তু সরকারপক্ষ এবং মালিকপক্ষের মধ্যে একটা প্রবল যোগসাজস দেখা যাচ্ছে মেহনতি মানুষের প্রাপ্যের ভাগ কমিয়ে মুনাফার ভাগ বাড়ানোতেই শুধু নয়, অবৈধ নানা প্রক্রিয়ায় বৃহৎ পুঁজির মালিকের অর্থশক্তিকে বাড়ানোতে। মালিক এবং সরকার একই সুরে বলছে, আরো বেশি সময় ও মেহনত দাও কাজের জন্য। তাতেই তো কর্মীর দায়িত্ব পালন করা হবে, উৎপাদন বাড়বে আর দেশ বিকশিত হবে। এই বার্তা বোঝা হয়ে চেপে বসছে শুধু গায়েগতরে যাদের খাটতে হয় তাদের ওপরেই নয়। যাঁরা অনলাইন কাজ করেন, তাঁদের বাড়িতেও কাজের হাত থেকে রেহাই নেই। প্রবল প্রতিযোগিতার এই দুনিয়ায় শীর্ষস্থানীয় সংস্থায় চার্টার্ড একাউন্টেন্ট পদে যোগ দেবার মাত্র ছ’ মাসের মধ্যে তরুণী আনা অগাস্টিন ভয়াবহ মানসিক চাপের মুখে আত্মঘাতী হতে বাধ্য হচ্ছে। এও কি মালিকপক্ষের গৃহীত নীতির কারণে কর্মস্থলে হেনস্থার একটি নতুন উদাহরণ নয়?
গত দশকে মেয়েদের শিক্ষা ও পুষ্টির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বঞ্চনার যে দগদগে ছবি উঠে আসছে নানা রিপোর্টে, আবার মেয়েদের ওপর গার্হস্থ্য হিংসার এবং যৌন নির্যাতনের যে বাড়বাড়ন্ত এইসময়ে আমরা দেখছি তার গভীর যোগ রয়েছে মেয়েদের শ্রমের মূল্য কমে যাওয়ার এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে; তাদের সামাজিক মূল্যও এইসঙ্গে কমছে শুধু নয়, তাদের বিরুদ্ধে ঘরে বাইরে তাচ্ছিল্যের ভাব, এমনকী বিদ্বেষের ভাব বাড়ছে।
অপরাধের সংখ্যা এবং ভয়াবহতা বাড়লেও মালিক বা সরকার কারুকেই অন্তত সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার খাতিরেও এর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থাগ্রহণে মোটেই ব্যস্ত মনে হচ্ছে না। বরং বারবার প্রমাণিত হচ্ছে যে সমাজের শীর্ষে বসে থাকা সমাজের সম্পদ অপহরণকারী অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজস করেই তারা চলতে চায়। প্রশাসন, সরকারি পরিকাঠামো, এমনকী অনেক ক্ষেত্রে আদালতও তাদের দখলে। অর্থাৎ শাসকের চেহারাও আজ ভীষণভাবে বদলে গেছে। জনহিতের মুখোস তারা আর পরে থাকার প্রয়োজন অনুভব করছে না। কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার আইনটি যে কার্যকরী হচ্ছে না মেয়েদের বিরুদ্ধে হিংসার অন্যান্য আইনের মতোই, সন্দেহ নেই তার পিছনে কেন্দ্রে ও রাজ্যে গদিয়ান শক্তিগুলির এককাট্টা প্রতিকূলতাই বড় কারণ।
আর জি করের ঘটনাটির শিকার এক তরুণী চিকিৎসক সমাজকে আরো অনেক কিছু যাঁর দেবার ছিল। তাঁরই প্রসঙ্গে কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থার প্রতিকার নিয়ে নতুন করে আমরা ভাবতে বাধ্য হচ্ছি। অনেকে হয়তো ভাবছেন এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তো কিছুই হচ্ছে না। আসলে এই আন্দোলন বিষবৃক্ষের গোড়া ধরে টান দিয়েছে। তাকে দীর্ঘমেয়াদী বহুমুখী লড়াইয়ে পরিণত করেই আমরা প্রতিকারের দিকে যেতে পারি।

Copyright © 2021 - 2022 Shramajeebee Bhasha. All Rights Reserved.