বামপন্থা ও গণতন্ত্রের কথোপকথন

[দেশ]

[দেশ]

অন্ধ্রপ্রদেশে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ধর্মঘটের জয়

অন্ধ্রপ্রদেশে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ধর্মঘটের জয়

শ্রমজীবী সংবাদ

photo

অন্ধ্রপ্রদেশে শ্রমজীবী নারী শক্তির তেজ ও লড়াই করার সক্ষমতার কাছে মাথানত করলো রাজ্য সরকার। গত ১২ ডিসেম্বর, ২০২৩ থেকে ১.০৫ লক্ষেরও বেশি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা ধর্মঘট চালাচ্ছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল: বেতন বৃদ্ধি, চাকরি নিয়মিতকরণ, এবং অবসরকালীন সুবিধা চালু করা, বকেয়া মজুরি বিল পরিষ্কার করা সহ ১১ দফা দাবি। লাগাতার ৪২ দিন ধর্মঘটের পর ১১ দফা দাবির ১০ দফা দাবি মেনে নিল জগনমোহন রেড্ডি সরকার। অন্ধ্রপ্রদেশের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর পরে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বিক্ষোভ এবং ধর্নার মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাছে তাদের দাবিগুলি পেশ করার কয়েক মাস পর শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের অনশন ও ধর্মঘট শুরু করেন। সিআইটিইউ, এআইটিইউসি, আইএফটিইউ এই তিনটি ইউনিয়নের জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির আহ্বানে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা আন্দোলন চালাচ্ছিলেন। আইএফটিইউ পরিচালিত ‘অন্ধ্রপ্রদেশ প্রগেসিভ অঙ্গনওয়াড়ি শ্রমিক ও সহায়িকাদের ইউনিয়ন’ পূর্ণশক্তি নিয়ে এই ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করছেন।
আন্দোলন দমন করতে সরকার ইউনিয়ন নেতা ও কর্মীদের গ্রেপ্তার, পুলিশি ব্যারিকেড, কাঁটাতারের বেড়া, এসমা জারি করা সত্ত্বেও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের লাগাতার ধর্মঘট অব্যাহত থেকেছে। আমরণ অনশনের পঞ্চম দিনে বিজয়ওয়াড়ায় অঙ্গনওয়াড়ি শ্রমিকদের আন্দোলনস্থলে মাঝরাতে নেমে আসে পুলিশি হামলা— যেখানে অনশনকারী দু’ হাজার মহিলা শ্রমিক ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। পুলিশ প্রথমে বিদ্যুতের লাইন কেটে দেয়, মহিলা শ্রমিকদের পুরুষ পুলিশরা জবরদস্তি করে গ্রেফতার করে। ৬ জানুয়ারি সরকার ধর্মঘট বেআইনি ঘোষণা করে ‘এসমা’ প্রয়োগ করে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অবিলম্বে কাজে যোগদানের হুমকি দেয়, নতুবা নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা করে।
জগনমোহন রেড্ডি সরকার প্রাথমিকভাবে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ধর্মঘটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও শ্রমজীবী নারী আন্দোলনের চাপে এবং রাজ্যের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নরম হতে বাধ্য হয়। কংগ্রেস-বাম সহ রাজ্যের বিরোধী দলগুলি ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে সরকারকে নিশানা করছিল এবং রাজ্যের ভয়াবহ বেকার সমস্যার প্রেক্ষিতে তুলোধোনা করছিল। সামনেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্য কংগ্রেসের নতুন সভাপতি ওয়াই এস শর্মিলা, মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডির বোন, ধর্মঘটী কর্মীদের সঙ্গে দেখা করার পরে সরকার আন্দোলনকারী ইউনিয়ন তিনটির নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
সরকার যে যে দাবি পূরণে বাধ্য হয়েছে:
* চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুলাই মাসে নির্ধারিত বেতন বৃদ্ধি।
* এই বছর থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের ২ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বীমা সহ জীবন বীমা।
* অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকা নিয়োগের বয়সসীমা ৪৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করা।
* অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের যাতায়াত ভাতা (TA) এবং মহার্ঘ ভাতা (DA) যথাক্রমে মাসিক এবং দ্বি-মাসিক ভিত্তিতে প্রদান।
* অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহায়িকাদের কাজের বয়েসের ঊর্ধ্ব বয়সসীমা ৬২ বছর করা।
* ৬২ বছর বয়সে অবসরের সময় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ১ লক্ষ টাকা এবং সহায়িকাদের ৪০,০০০ টাকা প্রদান।
* ভাড়া করা ভবনে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য ৬৬.৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করা।
* ৫৫,৬০৭টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বরাদ্দ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করার জন্য ৭.৮১8 কোটি টাকা করা।
* ২১,২০৬টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র প্রতি জন্য ৩,০০০ টাকা করে মোট ৬.৩৬ কোটি টাকা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বরাদ্দ করা।

Copyright © 2021 - 2022 Shramajeebee Bhasha. All Rights Reserved.