বামপন্থা ও গণতন্ত্রের কথোপকথন

[দেশ]

[দেশ]

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার অর্থ কী?

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার অর্থ কী?

অর্ণব চক্রবর্তী

photo

কিছুদিন আগে একজন বিশিষ্ট ডাক্তার এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, ভারতের মানুষজন রাজনীতি নিয়ে যতটা উৎসাহিত স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনায় তার সিকিভাগও নেই। অভিযোগটি যৌক্তিক মনে হলেও, এই বয়ানটির পেছনে কোথাও একটা মধ্যবিত্ত কুসংস্কার লুকিয়ে আছে। তার ইতিহাস এবং অর্থনীতি এখানে খানিক আলোচনা করার চেষ্টা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তিত্ব পল ফারমারের জীবনটাই যদি দেখি, তাহলেই বোঝা যাবে যে স্বাস্থ্যকে রাজনীতি থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়। পল ফারমার ডাক্তারি পড়ার পর হাইতির এক অজ গ্রামে কাজ করতে চলে যান। দীর্ঘদিন তিনি টিবি রুগীদের চিকিৎসা করেন। তিনি এবং তার সঙ্গী ডাক্তাররা ওষুধের খরচ মেটাতে বিভিন্ন ভাবে টাকা জোগাড় করেন। এই ভাবে অনেকদিন চালানোর পর তারা বুঝতে পারেন আসল সমস্যা অন্য জায়গায়। তারা খুঁটিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন টিবির চিকিৎসার জন্য যে ওষুধ ব্যবহার করা হয় তার প্রকৃত উৎপাদন মূল্য কত। তারা জানতে পারেন যে তখনকার বাজার দরের থেকে অন্তত ৯০% কম খরচে এই ওষুধগুলো তৈরি করা সম্ভব। এর ফলে টিবির ওষুধের দাম রাতারাতি অনেকটা কমে আসে। এখান থেকেই তারা বুঝতে পারেন, একমাত্র নীতিগত বদল আনতে পারলেই অনেক বেশি রুগীকে পরিষেবা দেওয়া সহজ হয়। এইচআইভি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও একই জিনিস দেখা যায়। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য আন্দোলনের কর্মীরা যখন ভারতের ওষুধ কোম্পানি সিপ্লা-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে ওষুধের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে পারে, তখন পেটেন্ট আইন ভঙ্গ করার অভিযোগ তুলে কিছু বহুজাতিক কোম্পানি আপত্তি জানালেও তা ধোপে টেঁকেনি।
এর থেকে বোঝা যায় যে স্বাস্থ্য শুধু প্রযুক্তির উন্নতি বা দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না। স্বাস্থ্য নীতি তৈরি করার পেছনে একাধিক ভাবনা কাজ করে থাকে। যেমন, একটি সমাজ মানবাধিকার সম্পর্কে কি ভাবছে, অথবা অর্থনীতি বা নাগরিকের অধিকার কে কিভাবে দেখে। এখানে প্রায়ই আমরা এক প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি, অর্থনৈতিক প্রশ্ন থেকে রাজনীতি, বিশেষত রাজনৈতিক অধিকারকে গোড়াতেই বাদ দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই মনে করেন যে রাষ্ট্রের কাছে দাবি আদায় করার চেয়ে আত্মনির্ভরভাবে বাজার থেকে নিজের দরকার মেটাতে পারাটা গরীব মানুষের পক্ষে অনেক সম্মানজনক। এই অর্থনৈতিক আদর্শ বিশ্বাস করে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বা ঘাটতি মেটানোর জন্য ক্ষমতাশালীদের নিজেদের সুযোগ সুবিধা থেকে একটুও কাটছাঁট করতে হবে না। কারণ তারাই সমস্ত পিছিয়ে পড়া মানুষকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে দেবে ‘মাইক্রো এণ্টারপ্রেনার’ হিসাবে, অথবা ‘সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের’ মাধ্যমে। আর এই চিন্তাধারাটা এতটাই প্রভাবশালী যে মহম্মদ ইউনুস, হেরনান্দো দে-সোতো, এবং বিল গেটস-র মতো নানান ক্ষেত্রের রথীমহারথীদের এক মঞ্চে নিয়ে আসে। তাই এখন আমাদের রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোকে শুধুই সাংস্কৃতিক পরিসরে সীমাবদ্ধ করে রাখে, যেন আমরা সব অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান পেয়ে গেছি, খালি কিছু দায়িত্ববান, সংবেদনশীল বিনিয়োগপতি ও উদ্যোগপতিদের অভাব! আর এটা শুধু স্বাস্থ্যই নয়, খাদ্য নিরাপত্তা, পানীয় জল, শিক্ষা, গণপরিবহন সহ সব রকম পরিষেবার ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। আমরা যে রাজনীতি বিরোধিতার কুসংস্কার দিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলাম সেটাও আসছে এই আদর্শ থেকেই।
আত্মনির্ভরতার রাজনীতি বিভিন্ন স্তরে কাজ করে। রাষ্ট্রীয় স্তরে এর মারাত্মক নমুনা অতিমারির প্রথম কিছু মাসেই পরিষ্কার হয়ে গেছে। আমরা এখন বুঝে গেছি, কেমন করে এই রাষ্ট্র হাজার হাজার মানুষের দায়িত্ব বাজারের হাতে তুলে দিয়েছিল, আর যে মুহূর্তে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেল, তাদের কাছে বেঁচে থাকার ন্যূনতম উপাদানও আর রইল না। আন্তর্জাতিক স্তরে এই আদর্শটা বাস্তবায়িত করার পেছনে কিছু হিতকারী সংস্থার বড় ভূমিকা আছে। একদা ফোর্ড এবং রকফেলার ফাউন্ডেশন এগিয়ে এসেছিল পুঁজিবাদের মানবিক মুখ হিসাবে। এরা ৮০-র দশকের প্রথম থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-র অধিকার ভিত্তিক স্বাস্থ্যনীতির বিরুদ্ধে প্রচার চালায়। এমনকি তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতার প্রয়োগ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমান্তরাল কর্মসূচিও শুরু করে, আজকের গেটস্ ফাউন্ডেসানের মতোই। এরা স্বাস্থ্যের বাজারিকরণ তো ঘটাচ্ছেই, পাশাপাশি এক এমন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৈরি করেছে যেখানে স্বাস্থ্যের অধিকারের দাবি তোলাটাই কঠিন হয়ে উঠছে, এর ফলে রাষ্ট্র এবং অন্তর্রাষ্ট্রীয় সংগঠনগুলি তাদের দায়িত্ব খুব সহজেই ঝেড়ে ফেলতে পারছে। এখানে বিশ্বব্যাঙ্কও নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছে, তারা বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য বাজেট কমানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব অতিমারি মোকাবিলার ওপর ভীষণ ভাবে পড়েছে। এই পুরোটাই একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, আর এবারের অতিমারির মোকাবিলাতেও এর প্রভাব মারাত্মক ভাবে পড়েছে।
কোভিডের সময় আমরা দেখেছি যে, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক অবস্থান কিভাবে তাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং নীতি নির্ধারণের বিষয়টা নিয়ন্ত্রণ করছে। কিউবা যখন তাদের জনস্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়ে কোভিডের দৈনিক সংক্রমণ ১-২ তে নামিয়ে এনেছে তখন আমেরিকা, ইংল্যান্ডের মতো ধনী দেশেরা, তাদের সবচেয়ে উন্নত এবং দামি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও কোভিড সংক্রমণ ও মৃত্যুতে হাবুডুবু খাচ্ছে। আর এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে কিউবার রাজনৈতিক পরিকাঠামোর জন্যই।
কিউবাতে এখন দুটো স্বদেশী টীকা দেওয়া শুরু হয়েছে। তারা ভারত, রাশিয়া, এবং অন্যান্য দেশের মতো জরুরি ব্যবহারের জন্য এই টীকাগুলোর বিশেষ অনুমোদন করেছে। এখন তাদের আব্দালা ভ্যাকসিনের তৃতীয় ভাগের পরীক্ষা শেষ হয়েছে, এবং তা ৯২% কার্যকরী বলে দাবি করেছেন বৈজ্ঞানিকেরা। কিউবা আন্তর্জাতিক কোভাক্স ফেসিলিটি প্রকল্পতে অংশগ্রহণ করেনি বা কোনও বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকেও ভ্যাকসিন কেনেনি। তা সত্ত্বেও ইতিমধ্যেই তারা দেশের ৯% মানুষের টীকাকরণ সেরে ফেলেছে। তারা এটাও দাবি করেছে যে দেশের নাগরিক ছাড়াও, পর্যটকরাও কিউবা এলে ভ্যাকসিন নিতে পারবে বিনামূল্যে।
অন্য দিকে যে গরিব দেশগুলো কোভাক্স প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত, তারা অনেকেই  টীকাকরণের হারে বহুদূর পিছিয়ে আছে। সারা আফ্রিকাতে শুধুমাত্র ২.৫% শতাংশ লোকই এখনো অবধি ভ্যাকসিন পেয়েছে। ভারতে এই সংখ্যাটা ৩%। ইজরায়েলে ৬০% আর আমেরিকা তে ৪০% লোক ইতিমধ্যেই ভ্যাকসিন পেয়ে গেছে। ভারতে যেখানে অনেকক্ষেত্রেই লোককে পয়সা দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে, সেখানে ধনী দেশগুলোতে টীকাকরণ চলছে বিনামূল্যে। এই আন্তর্জাতিক বৈষম্যের জন্য দায়ী আবার, সেই তথাকথিত “আত্মনির্ভরতার রাজনীতি”। ফলে দুনিয়াজোড়া এই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়াই সম্ভব হচ্ছে না।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে কোভাক্স ফেসিলিটি আসলে গেটস্ ফাউন্ডেশনের প্রচেষ্টায় তৈরি একটি ‘পাব্লিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ যারা ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক সংস্থা আর বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর মধ্যে গাঁটছড়া বাঁধার কাজটা করে। এই প্রকল্পটি কার্যকর হওয়ার আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি “কমন পুল” তৈরি করার কথা বলে যেখানে সব দেশ তাদের কোভিড প্রযুক্তি এবং তথ্য ভান্ডার জমা রাখবে, এবং সেই তথ্য ও প্রযুক্তি সবাই অবাধে ব্যবহার করতে পারবে। এর নাম দেওয়া হয় ‘সি-ট্যাপ’। এটা অবশ্যই ওষুধ উৎপাদকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, এবং তারা এতে অংশগ্রহণ করতে অস্বীকার করে। এছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সারা পৃথিবীতে টীকাকরণের সবচেয়ে ন্যায্য ও গ্রহণযোগ্য একটি প্রোটোকল তৈরি করে। কিন্তু এটাও কার্যকর করা যায়নি, ওষুধ কোম্পানিগুলোর অসহযোগিতার ফলে।
ইতিমধ্যে গেটস্ ফাউন্ডেশন এবং অন্য আন্তর্জাতিক এনজিওদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বেশির ভাগ টীকা প্রস্তুতকারক সংস্থা কোভাক্স ফেসিলিটিতে যোগ দেয়। ধনী দেশগুলোও সক্রিয় ভাবে এতে যোগদান করে। তখন এটাই হয়ে ওঠে গরিব দেশগুলোতে টীকা সরবরাহের এক মাত্র উপায়। আর এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোভিড ভ্যাকসিনের পেটেন্ট সুরক্ষিত থাকে উৎপাদকদের জিম্মায়। তাছাড়া কোভাক্স প্রকল্প ৯০টি গরিব দেশের মাত্র ২০% জনতার কাছেই ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় বাদবাকিটা তাদের উৎপাদকদের কাছ থেকেই বাজার দরে কিনে নিতে হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে নৈতিক প্রক্রিয়ার কথা বলেছিল, সেটি আর পালন করা হয় না। বরং বিভিন্ন গরিব দেশের মধ্যে, এক অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এটাকেই ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ বলছেন। আমরা এখানে দেখা যাচ্ছে যে সংস্থাগুলিকে আপাত ভাবে অরাজনৈতিক বলে মনে হচ্ছে তারাও আসলে সেই হারনান্দো দে-সোতো কথিত ‘আত্মনির্ভরতা’-বাজারনির্ভরতার রাজনীতিই খেলছে। আর নরেন্দ্র মোদির ভারত এই রাজনৈতিক হাতিয়ারটিকে কেমন ভাবে জাতীয় নীতিতে ব্যবহার করেছে সে তো আমরা আগেই দেখেছি।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বলা দরকার অতিমারির প্রথমদিকে ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের কাছে কোভিড সংক্রান্ত সব প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক পেটেন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা দাবি করলেও পরে কার্যত সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও সরকার ততদিনে মূলত চীন এবং অন্যান্য নিম্ন-বা-মধ্য আয়ের দেশগুলির তুলনায় টীকা উৎপাদনে ভারতের আপেক্ষিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা কত বেশি এটা প্রমাণ করার একটি শর্টকাট রাস্তা খুজে পেয়েছেন।
একটি বেসরকারি ওষুধ সংস্থার বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর নির্ভর করে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে ভারতের ছদ্মআত্মনির্ভরতার ঢাক না পিটিয়ে, মোদি সরকারের সামনে এ সময় সুযোগ ছিল তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মুখপাত্র হয়ে ওঠার। বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে এক আন্তর্জাতিক স্তরের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার।
তবে তার আগে তো আমাদের রাজনৈতিক চেতনায় স্বাস্থ্যের অধিকারের বোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। আর রাজনীতি সংক্রান্ত আলোচনার গন্ডিটা বাড়ানো, রাজনীতিকে এড়িয়ে চলা নয়। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর ৫৬ ইঞ্চি বুক চাপড়ানো আত্মনির্ভরতার রাজনীতির বিপরীতে এক বিকল্প অর্থনৈতিক আদর্শ তুলে ধরতে হবে।
এই বারের পশ্চিমবাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পর একটা ধারনা তৈরি হয়েছে যে অর্থনীতির ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তাবাদী রাজনীতিই হয়তো একমাত্র বিকল্প। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বিকল্পটিও প্রবল পপুলিস্টও হতে পারে, যেমন আমরা পশ্চিম বাংলায় দেখছি। আবার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো প্রসারিত করার মাধ্যমেও হতে পারে, কিউবার মতো। আর তা কোন চেহারা নেবে, সেটা নির্ধারণ ও নির্মাণ করাটাই স্বাস্থ্য এবং রাজনীতির পক্ষে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে পশ্চিম বাংলা বা কিউবা ছাড়াও আরেকটি মাঝামাঝি পথ আমাদের সামনে আছে, যা কেরালা অবলম্বন করেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। ভারতের সাধারণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আর রাজ্যের সীমিত সামর্থের মধ্যে থেকেও কেরালা নাগরিকের স্বাস্থ্য অধিকারকে অনেকদূর পর্যন্ত সু্নিশ্চিত করতে পেরেছে। তার একটা বড় কারণ, কেরালার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তৃণমূল স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সজাগ তত্বাবধানে পঞ্চায়েত বা পুরসভার অধীনে কাজ করেন। কিউবার মতোই, এখানেও স্বাস্থ্য কর্মীরা সারা বছর জনস্বাস্থ্যের জন্য কাজ করে যান। কোভিড মোকাবিলায় কনট্যাক্ট ট্রেসিং-এ কেরালার সাফল্য গোটা দুনিয়াকেই চমকে দিয়েছে। তারা সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে, পরিযায়ী শ্রমিক সহ সবার জন্য খাদ্য ও থাকার জায়গার ব্যবস্থা করেছে। যার জন্য মানুষেরও কোভিড বিধি মানতে সুবিধা হয়। টীকাকরণের ক্ষেত্রেও কেরালা অন্য রাজ্যের থেকে অনেক বেশি এগিয়ে।

Copyright © 2021 - 2022 Shramajeebee Bhasha. All Rights Reserved.