বামপন্থা ও গণতন্ত্রের কথোপকথন
[রাজ্য]
শ্রমজীবী ভাষা, ১ ডিসেম্বর, ২০২১— প্রায় কুড়ি মাস পর, পশ্চিমবঙ্গে কোভিড অতিমারির দ্বিতীয় ঢেউ কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে। উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পাশাপাশি স্কুলের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীতে ছাত্র ছাত্রীদের সশরীরে আনাগোনা শুরু হয়েছে। ক্যাম্পাসের হারিয়ে যাওয়া কলধ্বনি ফিরে আসছে। আনন্দ, উৎসাহ, শঙ্কা সব মিলে মিশে একাকার। শিক্ষক, অভিভাবক, ছাত্র/ছাত্রী সবার মধ্যেই এক উত্তেজনা। নবম শ্রেণীর নিচের ছাত্র ছাত্রীরা ব্যাকুল আগ্রহে অপেক্ষা করছে কবে তাদের শ্রেণী কক্ষে ফেরার দিন আসবে।
হারানো অতীত
একটা সময় ছিল যখন শহরে গ্রামে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার ব্যস্ততা দেখা যেতো। সে ছিল প্রতিদিনের কর্মকাণ্ড। স্বাধীনতার দীর্ঘ সত্তর বছরের বেশি সময় ধরে শিশুদের স্কুলমুখী করার জন্য রাষ্ট্রীয় স্তরে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে
এসেছিল। এর ফলে দেশে ধারাবাহিক ভাবে শিক্ষার হার উন্নত হতে থাকে। শিশুদের পঠনপাঠন থেকে শুরু করে তাদের সামাজিকতার পাঠ, স্বাস্থ্য সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে হুল্লোড়, হাসি খেলার মধ্যে দিয়ে চলতো লেখাপড়ার অতি প্রয়োজনীয় চর্চা ।বন্ধুদের বন্ধুদের আলিঙ্গন, শিক্ষকের স্নেহস্পর্শ সব কিছু ছিল শিশুদের সে জীবনে এগিয়ে চলার পথে পাথেয়। করোনা অতিমারি নিমেষে সব তছনছ করে দিল।
অতিমারির দুঃস্বপ্ন
২০২০ থেকে শুরু হয় অভূতপূর্ব দুঃস্বপ্নের দিনগুলি। চারিপাশে ব্যাধি, মৃত্যু, আতঙ্ক।মানুষের অসহায় ছটফটানি। অন্ধকার সময়। ইতিহাসের এক সন্ধিক্ষণ। করোনা অতিমারির পরিমন্ডলে, স্কুল কলেজের গেটে তালা পড়ে যায়। শিক্ষা অনলাইন ধাঁচে চলে যায়। কিন্তু, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেটের ভিতর প্রবেশ করে যে প্রাণের স্পর্শ, অনলাইনে তা কোথায়? ক’জনই বা তার সুযোগ পায় আর যারা পায় তারা কতটুকুই বা উপকৃত হয় সে নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকে যায়। একাধিক সমীক্ষার মাধ্যমে তা যাচাই করার চেষ্টা দেখা যায়।
২০২০ সালে ১ মে থেকে ৮ মে-র মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে একটি অনলাইনে সমীক্ষা চালান হয় যেখানে ২৩২ স্কুল ছাত্রদের ইমেল ও ওয়াটসঅ্যাপএর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। দেখা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষার সঙ্গে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মাধ্যমে যুক্ত হলেও তারা প্রতিদিন নানা সমস্যার মুখে পড়চ্ছিল। সেগুলির মধ্যে ছিল ডিপ্রেশন, দুশ্চিন্তা, নেট যোগাযোগের সমস্যা, পঠনপাঠনের জন্য বাড়ির অনুপযুক্ত পরিবেশ প্রমূখ।[১]
নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন-এর প্রতীচী [ইন্ডিয়া] ট্রাস্ট এর ২০২১ এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায়, কলকাতায় প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশুই অনলাইন শিক্ষার সুযোগ পায় নি। এই তথ্য সংগৃহিত হয়েছিল কলকাতার একুশটি সরকার পরিচালিত স্কুল থেকে কয়েক শ’ শিক্ষকের ইন্টারভিউ নিয়ে ।তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০২০র এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে। [২]
অন্য একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ ছাত্র অনলাইন শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। [৩]
যে বিপুল সংখ্যক ছেলে মেয়েরা অনলাইন শিক্ষার সুযোগ পেলো না তাদের কি হল তা হয়ত কোনও দিনই সে ভাবে জানা যাবে না। তাদের অনেকেই সম্ভবত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বরাবরের মত ছিটকে যাবে, অন্ধকারে হারিয়ে যাবে। সঠিক ভাবে স্কুল ছুটের পরিসংখ্যান পেতে আমাদের আরো বেশ কিছু সময় লাগবে। অনেকটাই বোঝা যাবে যখন দেখা যাবে খুলে যাওয়া শ্রেণী কক্ষে ছেলে মেয়েদের উপস্থিতির হার আশানুরূপ নয়। দিনের পর দিন কিছু ছেলেমেয়ে অনুপস্থিত থাকছে। শহরাঞ্চলের তুলনায় প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের চিত্রটি আরো উদবেগজনক হতে বাধ্য।
ছাত্র নয়, শিশু শ্রমিক ওদের নতুন পরিচয়
একটি শিশুর জীবনে শিক্ষা অপ্রাসঙ্গিক হওয়ার পক্ষে দু’বছর কম সময় নয়। দেখা যায়, এই সময়ে দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা অনেকেই অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। হয় পরিবারের বড়দের কাজে সাহায্য করে, নয় তো ছোট খাটো কাজ খুঁজে নেয়। কেউ মাঠে ঘাটে চাষের কাজে হাত লাগায়, কেউ দোকানে, কেউ গাড়ির গ্যারাজে শিশু শ্রমিক হিসাবে নতুন পরিচয় পায়। করোনা কালে অনেকের পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে, উপার্জনশীল ব্যক্তি কাজ হারিয়েছে, রোজগার কমেছে, কোথাও বা আবার মৃত্যু দরজায় কড়া নেড়ে গেছে। এ হেন অবস্থায় পরিবারের দিক থেকে ঘরে বসে থাকা শিশুদের শিক্ষাকে বিলাসিতা মনে করা হয় এবং তাদের অর্থ উপার্জনে হাত লাগাতে বাধ্য করা হয়। সযত্নে লালিত জীবন থেকে ঠেলে দেওয়া হয় এক নির্মম অস্তিত্বের দিকে। বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের দরজা খোলা না খোলা তাদের অনেকের কাছেই অপ্রাসঙ্গিক থেকে যাবে। এই শিশু শ্রমিকরা বোধ হয় কোন দিনই আর ছাত্রতে পরিণত হবে না।
হারিয়ে যাওয়া মিড ডে মিল
কোভিডের সময়ে লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেল, শিক্ষার্থীদের একটা বড় পুষ্টির উৎস – মিড ডে মিল , যেটি ছিল প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের পুষ্টির ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। প্রতিদিনের মিড ডে মিলের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই এ সময়ে যা দেওয়া হতো তা নির্দিষ্ট সময় অন্তর শুকনো খাদ্যের একটা রেশন। বলা বাহুল্য, সেটি পরিবারের অন্যদের কাজে লাগায় অনেক পরিবার তাতে সন্তুষ্ট থাকলেও, শিশুটির উপকারে তা কতটা লাগত নির্দিষ্ট ভাবে তা বলা কঠিন। স্কুলের দরজা খুলে গেলে হারিয়ে যাওয়া মিড ডে মিলকেও সম্ভবত শিশুরা আবার ফিরে পাবে, তবে প্রায় দু’বছরের অভাবে তাদের পুষ্টির যে ক্ষতি হয়ে গেছে তা পূরণ হবে কী?
অতিমারির সময়ে স্কুলছুট মেয়েদের ক্রমবর্ধমান বাল্য বিবাহ
অতিমারির সময়ে পশ্চিমবঙ্গে বাল্য বিবাহের হার ভয়াবহ রকম বেড়ে যায় [৪]। চরম দারিদ্র, শিক্ষাঙ্গনের দরজা বন্ধ, শিশুদের শিক্ষার জন্য স্মার্ট ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে দেওয়ার সামর্থ না থাকা পরিবারে ভার মুক্ত হতে অনেক মেয়েরই বয়সের আগে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কখনো কখনো তা আবার হচ্ছে সরাসরি ভাবে টাকার বিনিময়ে। The New Indian Expressএ ২৯ জুন ২০২০ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২০র মার্চ মাসে লকডাউনের পর থেকে ৫০০র বেশি নাবালিকার বিয়ে হয়। অধিকাংশই পারিবারিক দারিদ্রের তাড়নায় [৫]। কখনো আবার করোনায় অভিভাবকের মৃত্যু এই পরিস্থিতি ডেকে আনে।
অনলাইন, বিয়ের ফাঁদ ও পাচার
ক্রমবর্ধমান বাল্য বিবাহের আরো একটা উদ্বেগজনক কারণ আমাদের সামনে উঠে আসে। ২৬ এ আগস্ট ২০২১ Save the Children নামক এন জি ও সাবধান করে জানায় কি ভাবে অনলাইনে অপরিণত বয়সের মেয়েদের ভুলিয়ে বিয়ের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে এবং পাচার করা হচ্ছে [৬]।এদের অধিকাংশই দরিদ্র পরিবারের স্কুলছুট সন্তান। লকডাউনের সময় বাল্য বিবাহের ১৯৮টি নালিশ আসে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কাছে, যার মধ্যে ১৩৪টি দেখা যায় সত্যি অভিযোগ। এই অভিযোগগুলির বেশির ভাগই আসে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা থেকে [৭]। এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয়, আম্ফান ঝড়ের পরে পরিস্থিতির বিশেষ অবনতি ঘটে। এই শিশুদের সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য তখন না ছিল স্কুল, না ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাল্য বিবাহের এই সমস্যাটা শুধু পশ্চিমবঙ্গের নয়, বিশ্বব্যাপী চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। UNICEF সতর্কতা জারি করেছে যে বাল্য বিবাহ রোধের ব্যাপারে গত দশ বছরে যে অগ্রগতি হয়েছে তা আজ বিশ্বব্যাপী কোভিড পরিস্থিতিতে বিপন্ন ।তাদের আশঙ্কা আজ এক কোটি মেয়ে নতুন করে বিপন্ন হয়ে পড়ছে। [৮]
২০২০ তে অন্তত দুটি ক্ষেত্রে কলকাতা হাইকোর্ট বাল্য বিবাহ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ১০ই জুন শিশুদের হোমএ কোভিড সংক্রমণ প্রসঙ্গে একটি মামলায়, কোর্ট পঞ্চায়েত প্রধানদের শিশু অধিকার ও বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে সংবেদনশীল করার প্রয়জনীয়তা ব্যাপারের নির্দেশ দেয় এবং বলে জেলা শাসকদের দায়িত্ব থাকা উচিত দেখার যে পঞ্চায়েত স্তরে এ বিষয়ে যথাযথ কাজ হচ্ছে ও দ্রুত সুরাহা হচ্ছে।এই অতি গুরুত্বপূর্ণ রায়টা দেন বিচারপতিদ্বয় হরিশ টন্ডন ও সৌমেন সেন। [৯]
২৬ আগস্ট ২০২০ কলকাতা হাই কোর্ট বাল্য বিবাহ বেড়ে যাওয়ায় আরো একবার উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানায় যাতে তাঁরা সতর্ক থেকে বাল্য বিবাহ রোধ করায় সহায়তা করেন। [১০]
অনলাইনের নেশা
এক দিকে কেউ কেউ অনলাইনে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে গেছে ।অপর দিকে আবার যারা অনলাইনে শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে, তাদের মধ্যে নানা ধরনের অন্য সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দেখা যায় দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহারে শিশুদের স্বাস্থ্য ও মনের উপর একাধিক ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। দৃষ্টিশক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব থেকে শুরু করে, খেলাধুলা না করায় ও দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে এক ভাবে বসে থাকায় হাড়, পেশির ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা যায়।
পরস্পরের সঙ্গে মেলামেশা, আদানপ্রদানের অভাব ক্রমেই শিশুদের অন্তর্মুখী করে তোলে আর উত্তরোত্তর মোবাইলের প্রতি তাদের আসক্তি বাড়ায়। বাস্তবে তারা বন্ধুর অভাব পূরণ করতে যায় ভার্চুয়াল বন্ধুর উপস্থিতি দিয়ে। আসক্তি বাড়ে অনলাইন গেমস, চ্যাট ইত্যাদির প্রতি। ক্রমে মোবাইলের ব্যবহার নেশায় পরিণত হয়, যে আসক্তিকে মনোবিদরা সাবধান করে তুলনা করেন মাদক হেরোইনের আসক্তির সঙ্গে। তাঁদের মতে, মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব ক্রমেই পরিবর্তিত হতে থাকে এবং ক্রমেই নেশার দ্রব্যের প্রয়োজন বেড়ে চলে। আর সেখানেই আনাচে কানাচে থাকে আরো নানা বিপদের হাতছানি। মোবাইলের ব্যবহারের নেশা অনেক ক্ষেত্রে এমনই প্রবল হয়ে ওঠে যে এক দিকে অপরাধ প্রবণতা বাড়ার আশংকা দেখা দেয়, অন্য দিকে শিশুকে বা কিশোরকে সেই নেশা থেকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ এর নভেম্বর মাসে অন্তত তিনটি এমন ঘটনার কথা সংবাদ পত্রের মাধ্যমে জানা গেছে।
স্বাভাবিকের পথে, তবু স্বাভাবিক নয়...
শ্রেণী কক্ষে পঠনপাঠন পুরোদমে শুরু হলে শিক্ষা ক্ষেত্রে কারা ফিরবে, কারা ফিরবে না বলা কঠিন। বর্তমানে উদ্ভুত সমস্যাটি জটিল। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ছিন্ন করে একটা সময়ে শিশুদের অনলাইন শিক্ষা, এবং তার সঙ্গে যুক্ত নানা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে আনার চেষ্টা হয়। কেউ কেউ সেই ব্যবস্থায় মোটামুটি স্বচ্ছন্দে যুক্ত হতে পারে, কেউ পারে না। কেউ থেকে যায় সম্পূর্ণ ব্রাত্য। তবে সবারই জীবন পাল্টে গেছে, কিন্তু তা ঘটেছে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে, ভিন্ন ভিন্ন অভিমুখে।
আজ সেই শিশুদের আবার স্কুলমুখী করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় সময় এসেছে প্রথমত, ঘটে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির মুল্যায়ন করা, আর দ্বিতীয়ত, শিশুদের নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য আরো একবার প্রস্তুত করার। অর্থাৎ, যে অভ্যাস পরিবর্তন শুরু হয়েছিল প্রায় দু’বছর আগে, সেই নতুন, কিছুটা হলেও আয়ত্ব করা অভ্যাসগুলি তাদের আবার পাল্টে ফেলতে বলা হচ্ছে, এবং অন্য এক নতুনের সঙ্গে তাদের খাপ খাওয়ানোর তৎপরতা চলছে। প্রথমটি অর্থাৎ ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা - বেদনাদায়ক, দ্বিতীয়টি অর্থাৎ নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো - কঠিন। তবে, দুটিই অতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। দুটির মোকাবিলাতেই পরিবার, শিক্ষক, পারিপার্শ্বিক সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বয় ও সংবেদনশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তা না হলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে। বিদ্যালয়ের তালা খুলতে খুলতে দেখা যাবে ইতিমধ্যেই শিক্ষার্থীদের অনেক কিছু , এবং তাদের অনেকে হারিয়ে গেছে। সক্রিয় ভাবে স্কুলছুটদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাতে হবে, যে ক’জনকে আনা যায় সেটুকুই লাভ। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অনেক কিছুই নতুন করে শেখানোর প্রয়োজন হবে, হয়তো বা অনেক কিছু গোড়া থেকে। কারণ, মাঝে থাকবে দুটো হারিয়ে যাওয়া বছরের দুঃস্বপ্ন!
তথ্যসুত্র:
[১]https://www.researchgate.net/publication/342389628_Impact_of_lockdown_on_learning_status_of_
undergraduate_and_postgraduate_students_during_COVID19_pandemic_in_West_Bengal_India
[২]https://www.thehindu.com/news/cities/kolkata/40-primary-school-students-in-kolkata-could-not-access-classes-during-pandemic-study/article35042618.ece
[৩] https://www.newsclick.in/alternate-education-centres-opened-west-bengal-school-dropout-pandemic
[৪]https://www.news18.com/news/india/child-marriage-on-rise-after-covid-19-in-west-bengal-4027481.html
[৫]https://www.newindianexpress.com/nation/2020/jun/29/lockdown-over-500-cases-of-child-marriages-reported-since-mid-march-in-west-bengal-2163008.html
[৬]https://reliefweb.int/report/india/india-girls-india-facing-greater-online-risk-child-marriage-and-trafficking-during
[৭]https://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/lockdown-peril-state-records-198-child-marriage-plaints/articleshow/76633587.cms
[৮] https://www.unicef.org/rosa/press-releases/10-million-additional-girls-risk-child-marriage-due-covid-19
[৯]https://www.thehindu.com/news/national/other-states/campaign-to-involve-panchayats-in-child-protection-in-west-bengals-vulnerable-districts/article33067601.ece
[১০]https://www.thehindu.com/news/national/other-states/campaign-to-involve-panchayats-in-child-protection-in-west-bengals-vulnerable-districts/article33067601.ece